নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন—জিসাস। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তৃত করেছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯২ সালে জিসাসের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর সংগঠনটির সঙ্গে চলচ্চিত্র, অভিনয়, সংগীতসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা যুক্ত হয়েছেন। সময়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে এবং একই সঙ্গে জেলা, মহানগর ও অন্যান্য পর্যায়ে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জিসাসের নামের সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম যুক্ত থাকায় সংগঠনটির কার্যক্রমের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংগঠনটি নিজেদের কার্যক্রমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেও গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
দীর্ঘ সময়ের পথচলায় সংগঠনটির অন্যতম কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্মাননা প্রদান এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচির আয়োজনের তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালে জিসাসের ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজনের খবর প্রকাশিত হয়। ওই আয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরীর সভাপতিত্ব করার তথ্যও প্রকাশিত হয়।
পরবর্তী সময়ে রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী জিসাসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংগঠনটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেও প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরীকে জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর বক্তব্যের কথাও উঠে আসে।
জিসাসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। নতুন কমিটি গঠন এবং পুরোনো কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে।
২০২৬ সালের মে মাসে সুনামগঞ্জ জেলা জিসাসের নতুন কমিটি অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হয়। ওই কমিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সভাপতি রোকেয়া সুলতানা কেয়া চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক শাওন আশরাফের স্বাক্ষরের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম মহানগর জিসাসের একটি আংশিক কমিটি অনুমোদনের খবরও প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অনুমোদনের মাধ্যমে মহানগর পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে। এর আগে যশোর জেলা জিসাসের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের খবরও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
সংগঠনটির সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মধ্যে গান, অভিনয়, চলচ্চিত্র, সাহিত্যসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। পরিচিতি ও সাংগঠনিক সভাগুলোতেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জিসাসের নিয়মিত সাংগঠনিক আয়োজনগুলোর একটি। সংগঠনটির ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালে আলোচনা সভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিন দশকের বেশি সময়ের এই পথচলায় জিসাসের সাংগঠনিক কাঠামোতে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন সময়ে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কমিটি হয়েছে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তি বর্তমানে সক্রিয় না থাকলেও নতুন প্রজন্মের সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠকদের সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের খবর থেকে সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় নেতাদের পদবির উপস্থাপনায় কিছু পার্থক্য দেখা যায়। তাই কোনো নির্দিষ্ট সময়ের নেতৃত্ব বা পদবি উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের সর্বশেষ অনুমোদিত কমিটি কিংবা সাংগঠনিক নথিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
আগামী দিনে জিসাসের জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সক্রিয় করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কমিটিগুলোকে কার্যকর রাখা, নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন করা, নতুন কর্মীদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সংগঠনের দীর্ঘ ইতিহাস সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে গুরুত্ব পেতে পারে।
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিসাস তার সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরিবর্তন, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি নিজেদের কার্যক্রম ধরে রেখেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে জিসাসের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনটির ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হয়, সেটিই হতে পারে তাদের পরবর্তী পথচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।