Logo
প্রিন্টের তারিখ: 01 November 2026 | প্রকাশের তারিখ: Nov 1, 2026

সংবাদ শিরোনাম : বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জিসাসের।

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জিসাসের।


নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি, এর পেছনের বিভিন্ন কারণ এবং সংকট মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা।

সংগঠনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময়ের বিভিন্ন নীতি, পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নানা দুর্বলতার প্রভাব বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা, আমদানিনির্ভরতা এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার কারিগরি সমস্যাও সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

জিসাস নেতৃবৃন্দের দাবি, অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থাপনার প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে না। তাদের মতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি বাস্তব তথ্যও জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, নতুন কূপ অনুসন্ধান ও খনন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস শুধু দুটি জ্বালানি সেবা নয়; এর সঙ্গে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন সরাসরি জড়িত। ফলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন জরুরি।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করলে জনমনে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জিসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন বলেন, “জনগণের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ সাধারণ মানুষের জীবন ও অধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যতেও আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব।”

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে হলে পরিকল্পনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

জনসচেতনতামূলক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জিসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সাধারণ মানুষের কাছে সংকট সম্পর্কে যাচাই করা তথ্য পৌঁছে দেওয়া, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকা এবং জ্বালানি সমস্যার টেকসই সমাধানের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জনসেবা ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত থাকবে।



Ad Channel 24
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ চট্টগ্রাম আইটি সফট
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF