নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীতে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চলমান অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় নগরীর বিভিন্ন থানায় সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় মোট ৫৯টি মামলা করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিএমপির প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিএমপির তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বিভিন্ন মামলার আসামি ও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের আটক করা হয়। পাশাপাশি অপরাধ তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের আলামত ও সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর এলাকায়। সেখানে পুলিশের অভিযানে ৮১ জনকে আটক করা হয়। ওয়ারী এলাকায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৬ জন। তেজগাঁওয়ে ৬১ জন, মতিঝিলে ৫৪ জন এবং উত্তরা এলাকায় ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৫ জন, রমনা বিভাগ থেকে ২৮ জন এবং গুলশান বিভাগ থেকে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির পৃথক অভিযানে আরও ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে এক দিনের অভিযানে গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৪ জনে।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা এসব আলামত সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে ব্যবহার করা হবে। উদ্ধার করা সামগ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিএমপি বলছে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অভিযানের সময় একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় ব্যবহারের অভিযোগ থাকা কয়েকটি মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক, বাজার, আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পুলিশের নজরদারি ও টহল কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানার কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার অপরাধপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করছেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান কোনো এককালীন কার্যক্রম নয়; এটি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টতার মাত্রা নির্ধারণ করা হবে। তাই কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
নগরবাসীর নিরাপত্তা বাড়াতে ছিনতাই, মাদক, চুরি, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও অভিযান বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে নগরীর কোথাও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে সাধারণ মানুষকে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো অপরাধ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধবিরোধী কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।