চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একটি বাসায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ১১ নম্বর চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লিচুবাগান এলাকায় গত ৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী রুবেলের দাবি, অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তার বাসায় প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল নিয়ে যায়।
চুরির ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী রুবেল জানান, তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বাসার পাশের মেইন সড়কের একটি দোকানে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাসায় অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে বলে তার অভিযোগ।
রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যেই চোরেরা বাসা থেকে মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানানোর পাশাপাশি চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী বলেন, চুরির ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
চুরির ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে পাশের বাসা ও প্রতিষ্ঠানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তার দাবি, ওই ফুটেজে তিনজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা ব্যক্তিদের ছবি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ছবিতে থাকা ব্যক্তিদের কেউ চিনে থাকলে অথবা তাদের পরিচয় কিংবা অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত ভুক্তভোগী অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় বা চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রুবেল। তিনি জানান, কেউ যদি সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য জানেন অথবা চুরি হওয়া মালামাল কোথাও বিক্রি বা লেনদেনের বিষয়ে কোনো তথ্য পেয়ে থাকেন, তাহলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্টদের জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দেওয়া যোগাযোগ নম্বর ০১৮৩২৭৬০৬৩২।
রুবেলের দাবি, চুরির ঘটনায় তিনি বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। তার ভাষায়, পরিবারের প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে তিনি অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাই দ্রুত মালামাল উদ্ধারের জন্য প্রশাসন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা প্রয়োজন।
চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিচুবাগান এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিনের বেলায় একটি বাসায় এ ধরনের চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, আবাসিক এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো প্রয়োজন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পাবে বলে মনে করছেন তারা।
রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগানে এই চুরির ঘটনায় এখন মূল প্রত্যাশা হলো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।