চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের হাজী পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পোমরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী পাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রীসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের দিকে হঠাৎ ওই বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ঘরের একটি অংশে আগুন দেখা গেলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরটির বিভিন্ন অংশ দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। এ সময় আগুনের খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
আগুনের ভয়াবহতা দেখে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয় যুবক ও বাসিন্দারা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর পাশাপাশি আশপাশের বাড়িঘর থেকে লোকজন ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও এর আগেই বসতঘরটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, পোশাক, প্রয়োজনীয় মালামালসহ বিভিন্ন সামগ্রী আগুনে পুড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয়রা জানান, আগুন লাগার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। কারণ, বসতঘরটির আশপাশে আরও কয়েকটি বাড়িঘর রয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে আগুন পার্শ্ববর্তী বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি থেকে এলাকাটি রক্ষা পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আগুন নেভানোর সময় ঘটনাস্থলে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তীব্র তাপের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অসুস্থতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাদের বসতঘরের কোনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, নগদ টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। এতে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট কত টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পর্যবেক্ষণের পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করা জরুরি। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় যুবকদের দ্রুত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মুহূর্তের মধ্যেই একাধিক বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই অগ্নিকাণ্ডের পর ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা এবং রান্নাঘরে গ্যাস বা চুলা ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের হাজী পাড়ার এ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হলেও স্থানীয়দের দ্রুত পদক্ষেপ এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ হয়েছে, তা বিস্তারিত হিসাবের পর জানা যাবে।