প্রকাশের তারিখ:১২ অক্টোবর ২০২৬
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩ নম্বর স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নে ১৫০ জন অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও উৎসবের উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সমাজসেবক এরশাদ সওদাগরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
রোববার সকালে ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণ এবং শান্তিনিকেতন বাজার এলাকায় সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে এসব উপহার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং অসচ্ছল পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
উপহার বিতরণ কার্যক্রমে এরশাদ সওদাগরের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় যুবদলের নেতাকর্মী, তরুণ সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তাঁরা সহযোগিতা করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বিতরণ করা উপহারসামগ্রীর মধ্যে নতুন শাড়ি, লুঙ্গি ও পূজার সময় প্রয়োজন হয় এমন বিভিন্ন সামগ্রী ছিল। নতুন পোশাক ও উপহার পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, উৎসবের আগে এ ধরনের সহযোগিতা অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয় আলাদা হলেও উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই সামাজিক সম্প্রীতির প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। দুর্গাপূজার আনন্দ সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত উৎসবের সময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
তাঁরা আরও বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির চর্চা বাড়ানো গেলে সমাজে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
উপহার নিতে আসা এক বয়স্ক নারী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, পূজার আগে নতুন কাপড় পেয়ে তিনি আনন্দিত। এই উপহার তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি এরশাদ সওদাগরের সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের প্রত্যাশা, তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগ জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তাঁরা প্রত্যাশা করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এরশাদ সওদাগরের ছেলে মুহাম্মদ মাসুদ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বক্করসহ স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁরা উপহার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
ইউনিয়ন পরিষেবায় হয়রানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি
উপহার বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এরশাদ সওদাগর ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকসেবা সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর বিষয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান। নাগরিকত্ব সনদ, চারিত্রিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের মতো প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এরশাদ সওদাগরের দাবি, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তিনি স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদকে হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন। তাঁর ঘোষণার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সনদ প্রদানসহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত নাগরিকসেবায় জনগণের কাছ থেকে কোনো অর্থ না নেওয়া এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তথ্যসেবা কেন্দ্রকে আধুনিক ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ডিজিটাল ও স্মার্ট ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানো হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই সম্ভব হলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পেতে পারেন।
এরশাদ সওদাগরের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনায় জনগণের করের অর্থ ব্যবহৃত হয়। তাই নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। নির্বাচিত হলে তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনা, সেবার মান উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক পরিষদ গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে চান।
নির্বাচনী এলাকায় আলোচনা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরশাদ সওদাগরের বিনামূল্যে নাগরিকসেবা দেওয়ার ঘোষণা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে সনদ সংগ্রহে ভোগান্তি কমানো এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধিবিধান, নির্ধারিত ফি-সংক্রান্ত নিয়ম এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নাগরিকসেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।