প্রকাশের তারিখ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬
মুহাম্মদ ওসমান গনি, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কারখানা ও জমি পরিদর্শন করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করতে তারা সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ায় অবস্থিত কারখানাটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদকে কাজে লাগানোর বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ইস্টার্ন কেমিক্যালের প্রায় ১০ একর জমি কীভাবে দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, বিগত শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সম্পদ পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা কিংবা বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে কার্যত শূন্যের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সব স্থাপনা ও সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহারের আওতায় আনার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন সম্পদগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। এ কারণে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্যান্য সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে ইস্টার্ন কেমিক্যালের প্রায় ১০ একর জায়গা পরিত্যক্ত থাকায় রাষ্ট্রের আর্থিক ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে অব্যবহৃত সম্পদকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি বলেন, “কীভাবে এই ১০ একর জায়গায় নতুন করে প্রজেক্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্য কিছু করতে পারি এবং স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, আমাদের সেটাই উদ্দেশ্য। ঢাকায় গিয়ে আলোচনা করে এলাকার জন্য যেটা সর্বোত্তম, সেটাই আমরা করব।”
মন্ত্রী জানান, কারখানাটির বর্তমান অবস্থা, জমির ব্যবহার এবং সেখানে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উপকার হয়, এমন উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শনকালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ইস্টার্ন কেমিক্যালের পরিত্যক্ত জমি ও কারখানাকে কীভাবে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এই সম্পদকে কার্যকর ব্যবহারের আওতায় আনা গেলে রাষ্ট্রের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে দুই দিনের সফরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অন্যান্য সম্পত্তিও সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। এসব সম্পদের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে কীভাবে সেগুলোকে জনকল্যাণমূলক ও উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, ট্রাস্টের অধীন অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য উদ্যোগগুলো পর্যালোচনা করা হবে।
স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাঙ্গুনিয়ার মতো এলাকায় কোনো পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নতুনভাবে চালু করা বা সেখানে উপযোগী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং এলাকার মানুষের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগও বাড়তে পারে। তবে ইস্টার্ন কেমিক্যালের জমিতে ঠিক কী ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে জানা যায়।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে যে উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে, ইস্টার্ন কেমিক্যাল কারখানা পরিদর্শন তারই একটি অংশ। জমি ও স্থাপনার বর্তমান অবস্থা নিরূপণ, সম্ভাব্য প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক দিক পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা, রাষ্ট্রের স্বার্থ এবং স্থানীয় জনগণের সম্ভাব্য সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।
পরিদর্শনকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এস এম মুরাদ চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সদস্যসচিব ইদ্রিচ মিয়া মেম্বারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা পরিদর্শন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তারা শহীদ জিয়া কমপ্লেক্সে অবস্থিত এতিম ও দুস্থ শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়কালে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপতত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম সফরে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ পরিদর্শনের পাশাপাশি পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রশিক্ষণার্থীদের কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
রাঙ্গুনিয়ার ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিত্যক্ত কারখানা ও জমি নিয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে সেখানে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে কারখানাটি পুনরায় চালু হবে কি না, কিংবা সেখানে কোন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।