নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের তারিখ:১৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের কাছে দুর্গাপূজা শুধু উৎসবের আনন্দ নয়, শৈশবের স্মৃতি ও মাকে ঘিরে থাকা আবেগেরও একটি বিশেষ সময়। পূজা ঘনিয়ে এলে প্রয়াত মায়ের কথা আরও বেশি মনে পড়ে তাঁর। বিশেষ করে মায়ের হাতে তৈরি পায়েসের স্মৃতি আজও অভিনেত্রীর মনে গভীরভাবে জায়গা করে আছে। ব্যক্তিগত জীবনের এই আবেগের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে নিজের কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস পূজার স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় এবং চলচ্চিত্র নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তাঁর অভিনীত কয়েকটি নতুন সিনেমার কাজ নিয়েও কথা বলেন তিনি। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও পারিবারিক ব্যস্ততার পাশাপাশি অভিনয়জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
উৎসবের আনন্দে ফিরে আসে শৈশবের স্মৃতি
বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। প্রতিবছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অপু বিশ্বাসের শৈশবেও পূজার দিনগুলো ছিল আনন্দ ও পারিবারিক স্মৃতিতে ভরপুর।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই তিনি পূজার সময় মানুষকে আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন করতে দেখেছেন। তাঁর নিজের পরিবারেও এই দিনগুলো ঘিরে ছিল আনন্দের পরিবেশ। তাই পূজার সময় এলেই অতীতের সেই দিনগুলোর কথা তাঁর মনে পড়ে।
এবারের পূজা নিয়েও সবার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন অপু বিশ্বাস। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষ যেন আনন্দের সঙ্গে উৎসব পালন করতে পারেন এবং উৎসবের পরিবেশে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা তৈরি না হয়।
উৎসবকে ঘিরে এই প্রত্যাশা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সবার জন্য আনন্দময় পরিবেশ কামনা করার মধ্য দিয়েও তা প্রকাশ পেয়েছে।
মায়ের হাতের পায়েসের স্মৃতি আজও অমলিন
অপু বিশ্বাসের পূজার স্মৃতির সবচেয়ে আবেগঘন অংশজুড়ে রয়েছে তাঁর মা। কয়েক বছর আগে মাকে হারানোর পর উৎসবের সময় সেই অভাব আরও গভীরভাবে অনুভব করেন তিনি। বিশেষ করে পূজার দিন ঘনিয়ে এলে মায়ের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো তাঁর মনে ফিরে আসে।
মায়ের হাতে তৈরি বিশেষ পায়েসের কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সেই স্বাদ ও স্মৃতি আর ফিরে পাওয়ার সুযোগ নেই। শৈশবের পূজায় মায়ের রান্না করা এই খাবার তাঁর কাছে ছিল উৎসবের বিশেষ একটি অংশ। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও স্মৃতির সেই জায়গাটি এখনো অমলিন।
প্রিয়জনকে হারানোর পর উৎসবের আনন্দের মধ্যেও তাঁর অভাব অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক। অপু বিশ্বাসের বক্তব্যেও সেই অনুভূতির প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর কাছে পূজা তাই একদিকে আনন্দের উপলক্ষ, অন্যদিকে অতীতের পারিবারিক বন্ধন ও মায়ের ভালোবাসা মনে করার সময়।
অভিনেত্রীর এই স্মৃতিচারণ তাঁর ভক্তদের কাছেও ব্যক্তিগত জীবনের একটি আবেগপূর্ণ দিক তুলে ধরে। পর্দায় পরিচিত মুখের বাইরেও একজন মানুষের পারিবারিক সম্পর্ক, স্মৃতি ও অনুভূতি থাকে—এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেক দর্শক নিজেদের জীবনের মিল খুঁজে পেতে পারেন।
নতুন সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত সময়
ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতির পাশাপাশি চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছেন অপু বিশ্বাস। সাক্ষাৎকারে তিনি ‘শিকার’, ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’ নামের তিনটি সিনেমার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রকল্পগুলোর কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে সম্প্রতি নেপালে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে সেখানে আকস্মিক বন্যার কারণে শুটিংয়ের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় তাঁকে দেশে ফিরতে হয় বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।
চলচ্চিত্র নির্মাণে নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতিতে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়। নেপালের শুটিংয়ের ঘটনাটিও সেই বাস্তবতার একটি উদাহরণ।
অন্যদিকে ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’ সিনেমার কাজও অনেকটা এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন অপু বিশ্বাস। তবে কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো শেষ করার প্রত্যাশা করছেন তিনি। সিনেমাগুলোর মুক্তির তারিখ বা চূড়ান্ত প্রদর্শনসূচি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কোনো ঘোষণা দেওয়া ঠিক হবে না।
চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশা
ঢালিউডের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত অপু বিশ্বাস মনে করেন, চলচ্চিত্রই তাঁকে বর্তমান পরিচিতি এনে দিয়েছে। তাই দেশের সিনেমাশিল্পের ভালো সময় ফিরে আসুক—এমন প্রত্যাশা তাঁর রয়েছে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে দর্শক, নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও প্রযোজকদের পারস্পরিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মানসম্মত গল্প, দক্ষ নির্মাণ, অভিনয়ের সুযোগ এবং প্রেক্ষাগৃহে দর্শক উপস্থিতি—সবকিছু মিলেই একটি চলচ্চিত্রশিল্প এগিয়ে যায়। অপু বিশ্বাসের বক্তব্যে নিজের কর্মজীবনের পাশাপাশি এই শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
তাঁর নিজেরও সিনেমা নিয়ে আরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও পরিকল্পনাগুলোর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, নতুন কাজের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে আসার প্রত্যাশা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।
অভিনয়ের বাইরে নানা কাজে ব্যস্ততা
চলচ্চিত্রের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন, ফটোশুট এবং অন্যান্য পেশাগত কার্যক্রমেও অংশ নিচ্ছেন অপু বিশ্বাস। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৭ অক্টোবর একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বগুড়া যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
এ ধরনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নিজের বিউটি পার্লারের কাজও দেখাশোনা করেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে সন্তানকে সময় দেওয়ার বিষয়টিও তাঁর দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখ হিসেবে অভিনয়ের বাইরেও বিভিন্ন পেশাগত ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। এসব ব্যস্ততার মধ্যেই নতুন সিনেমার কাজ শেষ করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
জন্মদিনে ছেলের ভালোবাসায় বিশেষ মুহূর্ত
গত ১১ অক্টোবর ছিল অপু বিশ্বাসের জন্মদিন। এবারের জন্মদিনে তাঁর কাছে সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে ওঠে ছেলে আব্রাম খান জয়ের একটি ছোট্ট আয়োজন।
অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে নিজের টাকা জমিয়ে মায়ের জন্য একটি কেক কিনেছিল। জন্মদিনে ছেলের এই চমক তাঁকে গভীরভাবে আনন্দিত করে। সন্তানের নিজের উদ্যোগে এমন উপহার পাওয়ার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে।
জন্মদিন উপলক্ষে নিজের বিউটি পার্লারে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গেও কেক কাটেন অপু বিশ্বাস। তাঁদের নিজের পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ভক্তদের পক্ষ থেকেও জন্মদিন উদ্যাপনের আয়োজন তাঁকে আনন্দিত করেছে।
ব্যক্তিগত জীবনের এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি পরিবার, সন্তান, সহকর্মী ও ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্কও তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
ব্যক্তিগত স্মৃতি ও নতুন পথচলা
অপু বিশ্বাসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ব্যক্তিগত আবেগ এবং পেশাগত প্রত্যাশা পাশাপাশি উঠে এসেছে। দুর্গাপূজার সময় মায়ের স্মৃতি তাঁকে আবেগাপ্লুত করলেও নতুন সিনেমার কাজ এবং চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী।
একদিকে শৈশবের স্মৃতি, অন্যদিকে সন্তানের ভালোবাসা ও নতুন কাজের পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে তাঁর বর্তমান সময় কাটছে নানা অনুভূতি ও ব্যস্ততার মধ্যে। আগামী দিনে ‘শিকার’, ‘দুর্বার’ ও ‘সিক্রেট’ সিনেমার কাজ শেষ করে দর্শকদের সামনে আসতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন এই অভিনেত্রী।