Logo
প্রিন্টের তারিখ: 01 November 2026 | প্রকাশের তারিখ: Nov 1, 2026

সংবাদ শিরোনাম : চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, প্রবৃদ্ধি ১৩.১ শতাংশ

চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, প্রবৃদ্ধি ১৩.১ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | AdChannel24.com
প্রকাশের তারিখ:১৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসেই দেশে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১০.১০৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৮.৯৩৭ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.১ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ধারাবাহিকতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান এবং অর্থনীতির বহিঃখাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠানোর মাধ্যমে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করেন। একই সঙ্গে এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে ১.৫১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১.৩৫১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১২.২ শতাংশ। শুধু ১৪ অক্টোবর এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১১ মিলিয়ন ডলার।

সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই দেশে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি সারা অর্থবছর অব্যাহত থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের সুযোগ, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও প্রবাসী আয়ের প্রভাব রয়েছে। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহে সহায়তা পাওয়া যায়। এর ফলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনা এবং বৈদেশিক খাতের চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা তৈরি হতে পারে। তবে রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থার মূল্যায়নে রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনও বিবেচনা করতে হয়।

প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দিয়ে অনেক পরিবার কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, বাড়িঘর নির্মাণ এবং সন্তানদের শিক্ষায় বিনিয়োগ করে। ফলে রেমিট্যান্স কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক।

অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের সুফল আরও কার্যকর করতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নিরাপদ ও বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা সহজ করা জরুরি। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের নিয়োগ ব্যয় কমানো এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে প্রবাসী আয়ের ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে।

সব মিলিয়ে, চলতি অর্থবছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয় ১০.১০৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে। তবে এই প্রবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিত করতে রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীল খাতেও স্থিতিশীল অগ্রগতি প্রয়োজন।



Ad Channel 24
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ চট্টগ্রাম আইটি সফট
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF