নিজস্ব প্রতিবেদক | AdChannel24.com
প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ নিশ্চিন্তাপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাহেরিয়া ছাবেরিয়া আবুল হাশেম সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে মাদরাসার হলরুমে শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাদরাসার সুপার মাওলানা আরিফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. সেকান্দর সওদাগর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন।
মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. মাসুদ পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুর রহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো. তাজুল ইসলাম, মো. হারুন কোম্পানী, মোরশেদ তালুকদার, হাফেজ মামুনুর রশীদ, মো. ইসমাঈল তালুকদারসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটানো জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে সৎ, দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সে বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি শিশুর চরিত্র গঠন ও মানসিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করে, আর পরিবার থেকে তারা শিষ্টাচার, দায়িত্ববোধ, সততা ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা পায়। তাই সন্তানদের নিয়মিত পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের আচরণ, নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতিও অভিভাবকদের মনোযোগী হতে হবে।
তাঁরা মনে করেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সহজ হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হয়। এ ধরনের অভিভাবক সমাবেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাবেশে অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও কয়েকজন তাঁদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। তাঁরা মাদরাসার সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিভাবকরা মনে করেন, সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এতে তারা ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে মাদরাসার শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা কমিটির কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে সমাবেশটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে পরিণত হয়।
পরিশেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে অভিভাবক সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।