Logo
প্রিন্টের তারিখ: 01 November 2026 | প্রকাশের তারিখ: Nov 1, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত শেখ হাসিনার, আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনীতি

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত শেখ হাসিনার, আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনীতি


নিজস্ব প্রতিবেদক | AdChannel24.com
প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা প্রাণহানির ঝুঁকি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও তিনি ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে সর্বশেষ বক্তব্যে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ উল্লেখ করেননি তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়ার ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ১৯ অক্টোবর ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটিতে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও উপস্থিত ছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ফেরার ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাঁকে হত্যা করা, গ্রেপ্তার করা কিংবা নির্যাতন করা হতে পারে। তবে এসব আশঙ্কা তাঁর ফেরার সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করেনি বলে বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন তিনি।

শেখ হাসিনার এই বক্তব্য এমন সময় সামনে এসেছে, যখন তাঁর দেশে ফেরা, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সর্বশেষ বক্তব্যেও দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করেননি তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। একই সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম, দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে ভারতে অবস্থানকালে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বলেও আউটলুক ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওই মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শেখ হাসিনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। এসব অভিযোগ ও বিচারসংক্রান্ত বিষয় তাঁর সম্ভাব্য দেশে ফেরার আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়াও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।

শেখ হাসিনার বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তাঁর দাবি, দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে তাঁর এসব বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবি হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি; স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্যের পার্থক্য রাখা সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা, বিচারসংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ—সবকিছুই পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার সর্বশেষ বক্তব্যে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আগের পরিকল্পনাই পুনরায় সামনে এসেছে। তবে তিনি কবে, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেননি। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


Ad Channel 24
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ চট্টগ্রাম আইটি সফট
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF