নিজস্ব প্রতিবেদ | Ad Channel24
প্রকাশের তারিখ: ২২ অক্টোবর ২০২৬
খুলনা ও বাগেরহাট সফরকে কেন্দ্র করে আজ দিনব্যাপী সরকারি কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সফরসূচি অনুযায়ী, সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পর্যবেক্ষণ, মোংলা নৌঘাঁটিতে সভায় অংশগ্রহণ, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখার কর্মসূচি ছিল তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় সরকারপ্রধানের। সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা এবং সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পর্যবেক্ষণের কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল।
সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত এ বনাঞ্চল দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুন্দরবনের আশপাশের উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ, নৌপথ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এ কারণে অঞ্চলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পর্যবেক্ষণ সরকারি পর্যায়ে তাৎপর্য বহন করে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী হেলিকপ্টার এরপর সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাটের মোংলা নৌঘাঁটির উদ্দেশে যাত্রার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।
দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে ছিল মোংলা নৌঘাঁটিতে একটি সভায় অংশগ্রহণ। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুরে মোংলা নৌঘাঁটির জেটিতে পৌঁছানোর পর মধ্যাহ্ন বিরতি শেষে বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সভায় খুলনার বিভাগীয় কমিশনার এবং খুলনা ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকদের উপস্থিত থাকার কথা সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়।
মোংলা বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনে এ বন্দরের ভূমিকা রয়েছে। বন্দরটির সক্ষমতা, অবকাঠামো এবং পরিচালন কার্যক্রমের উন্নয়ন হলে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বন্দর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সফর উপলক্ষে কোনো নতুন প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ কিংবা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে এ এলাকা ঘুরে দেখার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার অন্যতম লক্ষ্য হলো শিল্পকারখানা স্থাপনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন খাত, পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, জমির প্রাপ্যতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।
খুলনা ও বাগেরহাট বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি জেলা। এ অঞ্চলের নদ-নদী, বন্দর, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অবদান রাখে। পাশাপাশি সুন্দরবনকেন্দ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণও এ অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ফলে সরকারি পর্যায়ে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক এলাকা পরিদর্শন উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে এসব কর্মসূচির উল্লেখ রয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা এবং বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীতে পৌঁছানোর সময়সূচিও উল্লেখ করা হয়।
তবে সফরসূচিতে নির্ধারিত কর্মসূচি ও বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই পরিদর্শন শেষে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত, প্রকল্প ঘোষণা বা উন্নয়ন পরিকল্পনা গৃহীত হয়ে থাকলে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।