রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশের তারিখ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানার লক্ষ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার রানিরহাট এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাপ্রত্যাশী মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানের সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এন এম তাইজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সঞ্চালনা করেন ছাত্রনেতা রেজাউল করিম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন একেএস হেলথ কেয়ার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামাঞ্জার শ্যামা খান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একেএস খান প্রপার্টিজের নির্বাহী পরিচালক মো. নোমানুর রশিদ। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়া মঞ্চের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ওয়াকিল আহমেদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার ও নাসির উদ্দীন, হুমাম কাদের চৌধুরী এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মহিবুল কবির তমাল, ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান রনি, রানিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহেদুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের অর্থ সম্পাদক ইউসুফ কামাল এবং সাবেক চেয়ারম্যান নেছারুল হক পেয়ারু।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জিয়া মঞ্চের মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম ফারুকী, বিএনপি নেতা প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন নসু, উপজেলা বিএনপির সদস্য সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের নেতা কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ, এবিএম সাইফুদ্দিন এবং সমাজসেবী কামরুল ইসলাম ওয়াদুদসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
মতবিনিময় সভায় প্রতিষ্ঠানের সিইও এ এন এম তাইজুল ইসলাম বলেন, একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান সম্পর্কে নাগরিক সমাজের মতামত জানা, বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেসব সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করাই এ মতবিনিময় সভার অন্যতম উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা সম্পর্কে সহজে জানতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ও মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা মনে করেন, স্থানীয় জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও সেবার তথ্য পৌঁছে দিতে কার্যকর প্রচার, চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রচারপত্র বিতরণ, প্রতিষ্ঠানের সেবার তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেইজ তৈরির বিষয়ে মতামত দেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
তাঁদের মতে, পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা গেলে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সহজ হতে পারে। তবে রোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে রোগীদের প্রয়োজন ও সেবার চাহিদা বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, একটি এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। পারস্পরিক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সেবার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা গেলে সেগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।
রাঙ্গুনিয়ায় নাগরিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের মতবিনিময় সভা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি সুযোগ তৈরি করেছে।