নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাপ্তাই সড়কের কুয়াইশ ভরাপুকুর এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি দিক থেকে একটি মোটরসাইকেল চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে এবি ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাস হাটহাজারীর দিকে যাচ্ছিল। কুয়াইশ ভরাপুকুর পাড় এলাকায় পৌঁছালে দুই যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের এক আরোহী মারা যান। অপর আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার সময় সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল। সংঘর্ষের শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, কুয়াইশ ভরাপুকুর এলাকার বাঁকটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। এই অংশে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তার মতে, বাঁকের কাছে অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কভাবে ওভারটেকিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত ও আহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ বছর। তার পরনে ছিল নীল শার্ট ও কালো প্যান্ট। আহত ব্যক্তির বয়সও প্রায় একই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, আহত ব্যক্তিকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাটহাজারী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুয়াইশ ভরাপুকুর এলাকায় এবি ট্রাভেলসের বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দুর্ঘটনায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছেন। তাদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর আরও পরিষ্কার হবে। চালক, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনও পরীক্ষা করা হবে।
কাপ্তাই সড়ক চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কুয়াইশ, নাজমিয়া হাট, হাটহাজারী ও রাউজানের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের চাপ এবং সড়কের বিভিন্ন বাঁকের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভরাপুকুর এলাকার বাঁকটিতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সড়কের পাশে অবৈধ দখল ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যান চলাচলে যে সমস্যা তৈরি হয়, তা নিরসনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে স্পিড ব্রেকার ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ম না মেনে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানো এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সভাপতি মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন বলেন, কুয়াইশ ভরাপুকুর এলাকার এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এখানে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকটি সংস্কার, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় সচেতন মহল সড়কে চলাচলের সময় চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার, অতিরিক্ত গতি পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বাস ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চালকদেরও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও জনবহুল এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ ও নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তসহ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশ পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।
MOHAMMAD MOINUDDIN