রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি, মুহাম্মদ ওসমান গনি
পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা মাইজপাড়ায় ৯ম আজিমুশ্শান মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) পোমরা মাইজপাড়া বাইতুর রহমত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং নবীপ্রেমের চেতনায় এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ওলামায়ে কেরাম, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রবাসীদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উপলক্ষে আয়োজিত এ মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবনাদর্শ, মানবতার কল্যাণে তাঁর অবদান, ইসলামের শান্তি ও সম্প্রীতির শিক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ধর্মীয় আলোচনা, জিকির-আজকার ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি এক আধ্যাত্মিক আবহে পরিণত হয়।
কুয়েত প্রবাসী মুহাম্মদ ইয়াকুবের সৌজন্যে এবং পোমরা মাইজপাড়া হাজী আহমদ মিয়া বাড়ির উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আয়োজন বাস্তবায়নে এলাকাবাসী ও প্রবাসীরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ ধর্মীয় আয়োজন এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাসুদুল করিম সেলিম ও মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম। মাহফিলের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজী আহমদ মিয়া বাড়ি কার্যকরী পরিষদের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফজলুল করিম। পরিষদের আরেক উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা তৈয়্যবিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সাবেক মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আমিন আলকাদেরী।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধেয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনিং অফিসার ডা. ওমর ফারুক রনি। ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মাহফিলটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন চট্টগ্রামের আল আমিন তাফসিরুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ সোলাইমান আলী রজভী। প্রধান ওয়ায়েজিন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোমরা মাইজপাড়া বাইতুর রহমত জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ আবু বিনতাহিন আইয়ুব আলী কাদেরী।
এ ছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোমরার রক্তচড়া বাইতুর নুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল্লাহ আলকাদেরী এবং মাইজপাড়া বাইতুর রহমত জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ এহসান কাদেরী। তাঁরা ধর্মীয় আলোচনা ও নসিহতের মাধ্যমে উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, মহানবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা তাঁদের আলোচনায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব, মানবিক গুণাবলির বিকাশ, মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের বক্তব্যে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বানও উঠে আসে।
ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ মুসলিম উম্মাহর কাছে মহানবীর জন্ম ও তাঁর জীবনাদর্শ স্মরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। অন্যদিকে ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে মুসল্লিরা ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং মহানবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার চর্চায় অংশ নেন।
মাইজপাড়ায় আয়োজিত এ মাহফিলেও ধর্মীয় অনুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রকাশ লক্ষ করা যায়। বিভিন্ন বয়সের মুসল্লিদের অংশগ্রহণে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি জিকির-আজকারের মাধ্যমে উপস্থিত মুসল্লিরা মাহফিলের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আবদুল গফফার, আহমদ করিম, মুহাম্মদ নুরুল বশর, মুহাম্মদ হারুন ও মুহাম্মদ নাছের সওদাগর। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম জাবেদ, মুহাম্মদ আবদুল সালাম, মুহাম্মদ ফারুক, মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম, মুহাম্মদ শফি, মুহাম্মদ নিশান, মুহাম্মদ রিয়াদ, মুহাম্মদ বাবু, মুহাম্মদ হৃদয়, মুহাম্মদ রাকিব, মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন রায়হান, মুহাম্মদ হাসান ও মুহাম্মদ জিহানসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আয়োজকদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রবাসীদের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। প্রবাসে অবস্থান করেও এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছেন। এ ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
মাহফিলে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় আলোচনা ও নসিহত শোনার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট অতিথি, বক্তা, ওলামায়ে কেরাম, মুসল্লি, এলাকাবাসী এবং প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তাঁদের সার্বিক সহযোগিতায় মাহফিলটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মাহফিলের শেষপর্যায়ে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি, দেশ ও জাতির কল্যাণ, মানুষের সার্বিক মঙ্গল এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত মুসলমানদের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির অগ্রগতি, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।
বিশেষ মোনাজাত শেষে উপস্থিত সর্বস্তরের মুসল্লিদের মধ্যে তাবারক বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পোমরা মাইজপাড়া বাইতুর রহমত জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ৯ম আজিমুশ্শান মিলাদ মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।
স্থানীয়দের অংশগ্রহণ, ওলামায়ে কেরামের ধর্মীয় আলোচনা এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ মাহফিল পোমরা মাইজপাড়ার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
MOHAMMAD MOINUDDIN