নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগকে রাজপথে সংঘাত কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে নয়, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা মারামারিতে রূপ না নেয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি, আদর্শ ও অবস্থানের মধ্য দিয়েই প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পরে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে। তবে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার অর্থ কোনো ধরনের মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবেই প্রতিযোগিতা করতে হবে এবং জনগণের সমর্থন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে হবে।
তার বক্তব্যে রাজনৈতিক বিরোধকে সহিংসতায় পরিণত না করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করা প্রয়োজন। রাজপথে সংঘাত সৃষ্টি করে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করার পরিবর্তে জনগণের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অবস্থান তুলে ধরাই কার্যকর পন্থা।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদেরও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সতর্কভাবে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো কর্মসূচি যেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি নাশকতা কিংবা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।
তার মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো অপরাধকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানি করাও সমর্থনযোগ্য নয়। কোনো অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জননিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোথাও নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়েও কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আদর্শের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন কোনো একক দলের বিষয় নয়। জনগণের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা দলটির কার্যক্রম এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। এমন একটি সময়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যকে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা বক্তব্য দেওয়া হলে সেটিও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেও নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিরোধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ হলেও সেটি যাতে সহিংসতা বা জননিরাপত্তার সংকটে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাও জরুরি।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যেও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও সেটিকে সরাসরি সংঘর্ষে রূপ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। জনগণের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে সমর্থন অর্জনের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা পরিচালনা করা উচিত।
বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যেন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সময় পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখেন এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে না পড়েন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের সারকথা হলো, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সংঘাত কিংবা সহিংসতার পরিবর্তে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়া। একই সঙ্গে নাশকতা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে দলগুলোর পারস্পরিক মতপার্থক্য থাকলেও তা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং জনগণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব—গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যে এমন অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গেছে।
MOHAMMAD MOINUDDIN