নিজস্ব প্রতিবেদক | AdChannel24.com
প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩ নম্বর স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, পূজার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা নিয়ে তাঁরা এসব মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কর্মকর্তা, পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তাঁরা দুর্গাপূজার আয়োজন, সার্বিক পরিবেশ এবং উৎসব উদযাপনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজ নেন। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের এই কর্মসূচিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক ঐক্যের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ—এই চেতনা ধারণ করে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি উৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইসমাইল সিকদার, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য আবু বক্কর মেম্বার, সদস্য আবু বক্কর, ইঞ্জিনিয়ার জসিম, আব্দুর জলিল, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক উন্নয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ শরীফ, যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন ননাই, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান আকবর এবং ছাত্রদলের কামাল ও আমজাদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় তাঁরা কানুরখীল পূজামণ্ডপ, মজুমদারপাড়া পূজামণ্ডপ, সাবেক রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম ও পূর্বপাড়ার পূজামণ্ডপ, সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ, নাথপাড়ার পূজামণ্ডপসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসব স্থানে তাঁরা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, তাঁদের দাবি অনুযায়ী, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর দুর্গাপূজা উদযাপনে দ্বিগুণ অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে প্রশাসনিক সহায়তাও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতিও ধন্যবাদ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তবে অনুদান বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংক্রান্ত বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাই সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের বিভেদ এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসব উদযাপন করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দও উৎসবের পরিবেশ, প্রশাসনিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানানো হয়। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সার্বিকভাবে, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের এই পূজামণ্ডপ পরিদর্শন স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের একটি উপলক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক সহাবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে তাঁদের এ কর্মসূচি শেষ হয়।
Shajeda Begum