নিজস্ব প্রতিবেদক | AdChannel24.com
প্রকাশের তারিখ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পৌঁছেছে ভারত থেকে আমদানি করা বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৮টি নতুন ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে কোচগুলো কারখানায় পৌঁছায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় এটিই প্রথম চালান। কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন হওয়ার পর কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নতুন কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেলকোচ কারখানায় তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে কোচগুলো পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট হয়ে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলপথ দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে দর্শনায় পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে এগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয়।
প্রথম চালানে আসা ১৮টি কোচ চার ধরনের। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, দুটি এসি স্লিপার কোচ এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। পাওয়ার কারে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা ও যাত্রীদের মালামাল বহনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে সংবাদসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন কোচ যুক্ত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে এসব কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে মোট ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম চালানের বাকি হিসেবে আরও ১৮২টি কোচ পরবর্তী ধাপে আসার কথা। তবে পরবর্তী চালানগুলোর নির্দিষ্ট আগমনের তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারখানায় পৌঁছানো কোচগুলো প্রথমে খোলা হবে এবং প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর দেশের রেলপথে চলাচলের উপযোগিতা যাচাই, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কাজের সঙ্গে কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে জানান, কোচগুলো কারখানায় আনার পরও তখন পর্যন্ত খোলা হয়নি। শিগগিরই এগুলো খুলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশের রেলপথের উপযোগিতা যাচাই করা হবে। যান্ত্রিক পরীক্ষা ও ট্রায়াল রান শেষ হলে কোচগুলো ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কোচ যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান বহর সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ব্রডগেজ রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিভিন্ন রুটে কোচের চাহিদা পূরণে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন কোচগুলো কোন কোন ট্রেনে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সৈয়দপুর কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান নতুন কোচগুলো দিয়ে চিলাহাটি–কক্সবাজার পর্যটন রুটে একটি আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত করা গেলে কোচের সংকট কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এটি তাঁর দাবি; ওই রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের উদ্যোগকে রেল পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন কোচগুলো চালু করার আগে যান্ত্রিক নিরাপত্তা, পরিচালনাগত উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি মান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কারখানায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ট্রায়াল রান সম্পন্ন হওয়ার পরই সেগুলো যাত্রী পরিবহনে ব্যবহারের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রথম চালানের ১৮টি কোচ পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে আমদানি করা কোচগুলো প্রস্তুত করার পরবর্তী ধাপ শুরু হলো। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কমিশনিংয়ের কাজ কত দ্রুত শেষ হয় এবং কোচগুলো কবে নাগাদ নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে যুক্ত হয়, সেটিই দেখার বিষয়। নতুন কোচগুলো বহরে যুক্ত হলে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন ও রেলওয়ের পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কতটা প্রভাব পড়ে, তা নির্ভর করবে এগুলোর কার্যকর ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট রুটে পরিচালন পরিকল্পনার ওপর।
Md.Noornabi Alamgir