চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশের তারিখ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি ইটভাটার চিমনি ও কিলন গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই অভিযানে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনি শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে অপর একটি ইটভাটাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার ৭ নম্বর বেতাগী ইউনিয়নের বানিয়াখোলা এলাকায় দিনব্যাপী সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে দুটি ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি অবৈধভাবে ইট উৎপাদন বন্ধে এ অভিযান চালানো হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ান-উল-ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আইন অমান্য করে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে ‘মেসার্স খাজা আজমির ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং’ (KMR) নামের একটি অবৈধ ইটভাটার চিমনি ও কিলন এক্সকাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ইটভাটার চিমনি ও কিলন ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, একই এলাকার পার্শ্ববর্তী ‘মেসার্স খাজা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং’ (KBM)-এর বিরুদ্ধে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আইনি শর্ত ভঙ্গের দায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আরোপিত জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে বলে পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান, রিসার্চ অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী ইফতেকার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অভিযান বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-০৭ চট্টগ্রাম, আনসার সদর দপ্তর এবং রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে। এ ছাড়া ইটভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয় রাঙ্গুনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান জানান, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচলিত আইন বাস্তবায়নে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ইটভাটা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নির্ধারিত শর্ত মেনে চলা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অপরিহার্য। রাঙ্গুনিয়ার বেতাগীতে পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দুটি ইটভাটার বিরুদ্ধে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
MOHAMMAD MOINUDDIN