নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীতে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আল আমিন সরদারের বয়স ২৫ বছর। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) শাখায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি কোতোয়ালি থানায় সংযুক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর ওয়াসা মোড়ের ইস্পাহানি চেকপোস্ট এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন আল আমিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ সময় কয়েকজন যুবকের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে তাদের থামার জন্য সংকেত দেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, সংকেত উপেক্ষা করে ওই যুবকদের একজন দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে আটক করতে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গেলে কনস্টেবল আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে ওই ব্যক্তির পিছু নেন।
পরে জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি বাস তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর সহকর্মী পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় এক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটির চালক মোশাররফ (৩৮) এবং সহকারী জয় দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে যে ব্যক্তিকে আটক করতে গিয়ে আল আমিন মোটরসাইকেলে অনুসরণ করছিলেন, সেই ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।
আল আমিন সরদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীরা তাঁকে দায়িত্বশীল ও কর্তব্যনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে স্মরণ করেছেন।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, নিহত পুলিশ সদস্যের মরদেহের প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর তা তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
নগরীতে ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তরুণ পুলিশ সদস্য আল আমিনের মৃত্যু দায়িত্বের ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে সাধারণ মানুষকে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি সড়কে চলাচলের সময় চালকদের সতর্ক থাকা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
MOHAMMAD MOINUDDIN