.

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে নতুন শীর্ষে স্পেন, জার্মানিকে ছাড়াল বাংলাদেশ

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে নতুন শীর্ষে স্পেন, জার্মানিকে ছাড়াল বাংলাদেশ ছবির ক্যাপশন : ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে স্পেন, পেছনে জার্মানি প্রতীকী ছবি
.


নিজস্ব প্রতিবেদক | AdChannel24.com
প্রকাশের তারিখ:১৬ অক্টোবর  ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় ইউরোপীয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত জার্মানিকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে স্পেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিপরীতে জার্মানির বাজারে রপ্তানি সামান্য কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে স্পেনে বাংলাদেশ থেকে ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৯৮ লাখ ৪৪ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে জার্মানিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১১২ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। আগের অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। সে হিসাবে জার্মানির বাজারে রপ্তানি কমেছে শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ইপিবির এই পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। রপ্তানির এই পরিবর্তনের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে স্পেন প্রথমবারের মতো জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইউরোপের পোশাক বাজারে স্পেনের অংশীদারত্বও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ২৩ দশমিক ৪২ শতাংশ গেছে স্পেনে। জার্মানির অংশ ছিল ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ। দুই দেশের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি না হলেও প্রবৃদ্ধির গতিতে স্পেন এগিয়ে রয়েছে।

শুধু স্পেন নয়, ইউরোপের আরও কয়েকটি বাজারেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশ। দেশটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। অন্যদিকে পোল্যান্ডে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

তবে ইউরোপের সব বড় বাজারে একই ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি। ফ্রান্সে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য কয়েকটি বাজারেও সম্মিলিতভাবে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ধরে রাখতে দেশভিত্তিক চাহিদার পরিবর্তন বোঝা এবং রপ্তানি কৌশল হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪৯০ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৭৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার। সে হিসাবে এই অঞ্চলে মোট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধিতে স্পেনের বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশটিতে রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি বৃদ্ধির বড় অংশ। সেপ্টেম্বর মাসেও স্পেনে রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা বজায় ছিল। ওই মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়ে প্রায় ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৯ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই শিল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। তাই স্পেনের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি দেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে একটি বাজারে রপ্তানি বাড়লেই পুরো শিল্পের আয় একই হারে বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সামগ্রিক ফলাফল নির্ভর করে অন্যান্য বাজারের চাহিদা, উৎপাদন ব্যয়, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো। প্রচলিত সুতি পোশাকের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক, নন-কটন পণ্য, বিশেষায়িত পোশাক এবং ফ্যাশনভিত্তিক নতুন পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে পারলে ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সময়মতো পণ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মানদণ্ড পূরণ করাও জরুরি।

ইউরোপীয় বাজারে পরিবেশগত মান, জ্বালানি ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ এবং সরবরাহব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে ক্রেতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে। এসব শর্ত পূরণে কারখানাগুলোর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থায় বিনিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়ানো রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্পেনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির পেছনে দেশটির ক্রেতাদের চাহিদা ও আমদানির প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে বর্তমান প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে ক্রয়াদেশের ধারাবাহিকতা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর। অন্যদিকে জার্মানির বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে। ফলে একটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে স্পেনের শীর্ষস্থানে উঠে আসা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্পেনের বাজারে ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে মোট রপ্তানিতে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি রপ্তানি খাতের ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। তবে এই অগ্রগতি টেকসই করতে বাজার বৈচিত্র্য, পণ্যের মানোন্নয়ন, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashim uddin

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরফভাটা ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী মাহবুল আলমের সমর্থ

সরফভাটা ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী মাহবুল আলমের সমর্থ