.

রেলওয়ের জমি ইজারা নিয়ে প্রশ্ন, সাবেক এমপি রুহেলকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ আবার আলোচনায়

রেলওয়ের জমি ইজারা নিয়ে প্রশ্ন, সাবেক এমপি রুহেলকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ আবার আলোচনায় ছবির ক্যাপশন : রেলওয়ের জমি ইজারা,পতীকী ছবি
.

নিজস্ব প্রতিবেদক | AdChannel24.com
প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রেলওয়ের জমি ইজারা ও ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেলকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগ আবার আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রেলওয়ের জমি ব্যবহারের অনুমতি, ইজারার পরিমাণ এবং অতিরিক্ত জমি চাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা হয়েছে—এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

‘খবরের কাগজ’-এ ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মিরসরাইয়ের পশ্চিম হিঙ্গুলি মৌজায় রেলওয়ের জমি ইজারা নেওয়া ও ব্যবহারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাহবুব উর রহমান রুহেল একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জমির জন্য আবেদন করেছিলেন। রেলওয়ের নথি অনুযায়ী, আবেদনে উল্লেখ করা জমির তুলনায় কম পরিমাণ জমির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও জমি ইজারা চেয়ে আবেদন করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

প্রতিবেদনটিতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়। তাঁরা জানান, জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অবৈধ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল।

রেলওয়ের জমি রাষ্ট্রের সম্পদ। এসব জমি ইজারা দেওয়া, ব্যবহার করা এবং সেগুলোর ওপর সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত সীমার বাইরে জমি ব্যবহার করছে কি না, তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

বিশেষ করে রেলওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইজারার শর্ত, জমির পরিমাপ, অনুমোদিত ব্যবহার এবং সরকারি নথির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে অসংগতি দেখা দিলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা দরকার। তবে জমি ইজারা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এবং আইনগতভাবে অবৈধ দখল প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করা জরুরি।

মিরসরাই চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে জমির ব্যবহার ও ইজারার বিষয়টি জড়িত। ফলে সরকারি জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেলওয়ের জমি নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা এবং তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে তুলে ধরা জনস্বার্থের অংশ।

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নথি, ইজারা চুক্তি, জমির পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া গেলে সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো উচিত।

এখানে উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালের ওই প্রতিবেদনটি রেলওয়ের জমি ইজারা ও ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ। সেটিকে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নতুন করে মামলা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। এ তারিখে মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে উল্লিখিত জমিসংক্রান্ত অভিযোগে দুদকের নতুন মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করতে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য নতুন সংবাদসূত্র প্রয়োজন।

সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই রেলওয়ের জমি ব্যবহারের বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর যথাযথ নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ এবং অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করাও সাংবাদিকতার দায়িত্ব।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : MOHAMMAD MOINUDDIN

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরফভাটা ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী মাহবুল আলমের সমর্থ

সরফভাটা ইউপি নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী মাহবুল আলমের সমর্থ