রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৫ নম্বর পারুয়া ইউনিয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন মন্দির ও শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর নেন এবং দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে নেতাকর্মীরা উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চান। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পূজার সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বানও জানান দলীয় নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রবীণ নেতা সৈয়দ আহমদ, উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও পারুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইউনুচ, প্রবীণ নেতা সুজিত বড়ুয়া, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ সোহেল, ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ সেলিম এবং ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন লোকমান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী জিকু, ছাত্রনেতা ইকবাল, রমজান, সিরাজুদ্দুল্লাহ, মইনুদ্দিন, আক্তার, জিসাদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী উৎসব ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার রয়েছে। এই অধিকার সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।
তাঁরা আরও বলেন, পূজার সময় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
এদিকে দুর্গাপূজার আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁরা জানান, তাঁদের অভিজ্ঞতায় চলতি বছরের দুর্গাপূজা আগের বছরগুলোর তুলনায় সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে। বিশেষ করে মণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের দাবি, আগের বছরগুলোতে প্রতিটি মণ্ডপে তিনজন করে সদস্য দায়িত্বে থাকতেন। এ ছাড়া প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পারুয়া ইউনিয়নে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিক সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক বজায় থাকলে ধর্মীয় উৎসবগুলো আরও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করা সম্ভব।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একইভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।
দুর্গাপূজার আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
Shajeda Begum